ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘ধরে নিয়ে গেছে’ যুক্তরাষ্ট্র। নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ জেলায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা মাদুরো দম্পতির ‘জীবিত থাকার’ প্রমাণ চাওয়ার পরই এই খবর জানালেন তিনি।
পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানি, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা শিগগিরই আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকান আদালতে, আমেরিকান ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন’।
তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা স্পষ্ট করে বলেননি মার্কিন অ্যাটর্নি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহসী সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ, যারা এই দুই অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে ধরার জন্য অবিশ্বাস্য এবং অত্যন্ত সফল অভিযান পরিচালনা করেছে’।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, যেহেতু মাদুরোকে আটক করা হয়েছে তাই ভেনেজুয়েলায় আর কোনো হামলা চালানো হবে না।
অপরদিকে আটককৃত মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এখানেই হবে তার বিচার।
মাইক লি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে লিখেছেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ধারণা দিয়েছেন, মাদুরো যেহেতু এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, তাই ভেনেজুয়েলায় আর হামলা চালানো হবে না। মাদুরোকে আটকের ওয়ারেন্ট যারা বাস্তবায়ন করতে গিয়েছিলেন তাদের রক্ষায় ভেনেজুয়েলায় মধ্যরাতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।’’
এর আগে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পর তার ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ চান ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো বা ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার এখনও জানে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। বলেন, সরকার তাদের উভয়েরই ‘তাৎক্ষণিক জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছে।
তারও আগে, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো এবং ‘দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে’ বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে মাত্র ৫০ সেকেন্ড কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথমে ট্রাম্প এই অভিযানের সাফল্য উদযাপন করেন। পরে বলেন, অনেক ভালো পরিকল্পনা ছিল এবং অসাধারণ, অসাধারণ সেনা ও মানুষ এতে জড়িত ছিলেন। আসলে এটি ছিল একেবারেই চমৎকার একটি অভিযান।
ভেনেজুয়েলায় ‘বড় পরিসরের হামলা’য় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুক্ত হওয়ার আগে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এটা নিয়ে আলোচনা করব। সেখানেই সব জানতে পারবেন।
সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা