দক্ষিণ ইরানের ফার্স প্রদেশের দেজগাহ গ্রামে বসবাসকারী আমু হাজি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে গোসল করেননি। এই বিরল ঘটনা তাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। ২০২২ সালে ৯৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
আমু হাজির জীবনের অধিকাংশ সময় সাবান ও পানি ব্যবহার এড়িয়ে চলার মূল কারণ ছিল তার বিশ্বাস, গোসল করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। গ্রামবাসীরা বহুবার চেষ্টা করলেও তাকে পরিষ্কার করতে পারেননি। তবে জীবনের শেষ কয়েক মাসে প্রতিবেশীদের চাপের মুখে তিনি প্রথমবারের মতো গোসল করতে রাজি হন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গোসল করার পর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন। আমু হাজি তার জীবন সম্পর্কে বলেছিলেন, শৈশবে কিছু মানসিক আঘাতের কারণে তার এই অস্বাভাবিক জীবনধারা গড়ে উঠেছে।
তার খাদ্যাভ্যাসও ছিল অস্বাভাবিক; পছন্দের খাবার ছিল শজারু (পোরকুপাইন) মাংস এবং তিনি পান করতেন পুরোনো তেলের ক্যান থেকে নেওয়া অপরিষ্কার পানি। এছাড়াও ধূমপান ছিল তার নিত্য অভ্যাস, একাধিক সিগারেট একসঙ্গে টানতেন।

তিনি গোসল করতে বা পরিষ্কার পানি নিতে রাজি না হওয়ার কারণে মানসিক চাপ অনুভব করতেন এবং এই বিষয়টি তাকে বিচলিত করতো।
যদিও অনেকেই তাকে দীর্ঘ সময় গোসল না করার জন্য বিশ্ব রেকর্ডধারী মনে করেন, তবুও ২০০৯ সালে ভারতের এক ব্যক্তির ৩৫ বছর গোসল না করার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই কাহিনী মানব জীবনের অদ্ভুত প্রান্তিকতার এক চমকপ্রদ নজির হিসেবে গণ্য হয়।