মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেছেন, বড় বড় অত্যাচারী শাসকদের মতো ট্রাম্পেরও শেষ পর্যন্ত পতন হবে। একইসঙ্গে তিনি ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট শক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাষণে খামেনি ইতিহাসের ক্ষমতাধর ও দাম্ভিক শাসকদের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের জানা উচিত যে- ফেরাউন, নমরুদ, রেজা শাহ এবং মোহাম্মদ রেজা শাহর মতো বিশ্বজুড়ে পরিচিত অত্যাচারীরা তাদের দম্ভের শিখরে থাকা অবস্থাতেই পতন বরণ করেছিল। তার (ট্রাম্প) ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিদেশি চাপের মুখে পিছু হটার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে খামেনি বলেন, এই ইসলামি প্রজাতন্ত্র লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না।
চলমান বিক্ষোভের সমালোচনা করে খামেনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বিদ্রূপের সুরে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যদি দেশ চালাতেই জানতেন, তবে নিজের দেশটাই ভালোভাবে চালাতেন।’
গত জুনের হামলার প্রসঙ্গ টেনে আয়াতুল্লাহ খামেনি দাবি করেন, ১২ দিনের সেই লড়াইয়ে এক হাজারের বেশি ইরানি নাগরিক ‘শহীদ’ হয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু মন্তব্যের দিকে ইশারা করে বলেন, ট্রাম্প নিজেই সেই অভিযানের দায় স্বীকার করেছিলেন। তিনি (ট্রাম্প) নিজেই বলেছিলেন যে আমি এই হামলার আদেশ দিয়েছি। এর মাধ্যমে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে তার হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।
ভাষণের শেষ অংশে খামেনি ইরানি তরুণদের ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাজিত করার ক্ষমতা রাখে।