এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে আটক করা হয় ১৮ হাজার ২০০ জনকে, আটক সবাই বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আটকদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৪২ জন আবাসন সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করেছেন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছেন ও ২ হাজার ৮২৭ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযানের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ হাজার ৭৬২ জনকে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ইয়েমেনি নাগরিক ও ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক। বাকি এক শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সঙ্গে অবৈধ পথে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া কিংবা তাদের অবস্থান গোপন করার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী আবাসন, শ্রম বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে ২৩ হাজার ৪৪৩ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৩৪ জন নারী রয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনীতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ১১ জনকে ভ্রমণের টিকিট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৪৫১ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফের সতর্ক করে জানায়, কেউ যদি অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করে, অবৈধ পরিবহন, আশ্রয় বা চাকরি দেয় কিংবা আইন লঙ্ঘনকারীদের আড়াল করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ ও প্রকাশ্যে অপরাধের তথ্য প্রকাশের বিধান রয়েছে।