চীনে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। অর্থাৎ, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা এখন ব্যবসা কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ৩০ দিনের কম সময়ের জন্য চীনে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন।
বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠকের পর ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা, বিনিয়োগসহ একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এই ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলছে, এটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেন স্টারমার। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে তারা। এর মাধ্যমে স্যার কিয়ার স্টারমার আট বছর পর চীন সফর করা প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হলেন।
উল্লেখযোগ্য ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা ২০৩০ সাল পর্যন্ত চীনে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিনিয়োগের আওতায় দেশটিতে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন ও জনবল বাড়ানো হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা হুইস্কির ওপর শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামাতে চীন সম্মত হয়েছে বলেও জানায় ডাউনিং স্ট্রিট।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। লক্ষ্য হলো মানবপাচারকারী চক্রগুলো চ্যানেল পার হতে যে ছোট নৌকার ইঞ্জিন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে, সেগুলোর সরবরাহ বন্ধ করা।
যুক্তরাজ্য জানায়, গত বছর মানবপাচারকারী চক্রগুলোর ব্যবহৃত ইঞ্জিনের ৬০ শতাংশেরও বেশি ছিল চীনে তৈরি। এই চুক্তিটি যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে সই হওয়া মোট ১০টি চুক্তির একটি। এছাড়া রপ্তানি, শিক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানান, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজে বের করাই তার লক্ষ্য। এ জন্য আরো খোলামেলা ও সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের মধ্যে উত্থান-পতন থাকলেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা এখন অনিবার্য।
তবে এই সফর নিয়ে যুক্তরাজ্যে সমালোচনাও উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি শ্যাডো হোম অফিস মন্ত্রী অ্যালিসিয়া কিয়ার্নস অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রপন্থী ব্যবসায়ী জিমি লাইয়ের মুক্তির বিষয়ে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া চীনে যাওয়া উচিত হয়নি প্রধানমন্ত্রীর।