দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিনোদন কমপ্লেক্স ও শিল্পকারখানা নির্মাণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন কিম জং উন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এএফপির বরাতে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানায়।
দক্ষিণ হোয়াংহাই প্রদেশের উননিউয়ুল কাউন্টিতে একটি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে কিম জং উন দেশটির ২০টি অঞ্চলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ।
কিম বলেন, ‘আঞ্চলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা এখন নতুন বছরের বিশাল সংগ্রামের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে আছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শহর ও কাউন্টির চিত্র বদলে যাবে।’
উত্তর কোরিয়া থেকে আসা গবেষক আহন চান-ইল এএফপিকে বলেন, কিমের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি প্রচলিত সামরিক জনশক্তির একটি বড় অংশকে নির্মাণকাজে নিয়োজিত করছেন, পাশাপাশি পরমাণু সক্ষমতার দিকেও পূর্ণ মনোযোগ রাখছেন।
সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিম অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাটি কোপাচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা হাততালি দিয়ে ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা নেড়ে তাকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। এক ছবির ক্যাপশনে কেসিএনএ একটি বিশাল উদযাপনী বিস্ফোরণকে রোমাঞ্চকর বলে বর্ণনা করেছে। এ সময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত সেনাদের জনগণের কল্যাণের কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন কিম।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রথম পঞ্চবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এর কোনো তারিখ এখনও পর্যন্ত ঠিক করা হয়নি। পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়া বর্তমানে একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের জনগণের চাহিদা পূরণের চেয়ে সামরিক খাত ও নিষিদ্ধ অস্ত্র কর্মসূচিকে প্রাধান্য দেওয়ায় উত্তর কোরিয়া বহুদিন ধরে সমালোচিত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছেন কিম। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তার জন্য তিনি হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কিম প্রশাসনের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বা টিকে থাকার রসদ তৈরি করেছে।
এ ছাড়া, প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে পিয়ংইয়ং পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে বিলাসবহুল রিসোর্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিমের এই আঞ্চলিক উন্নয়ন নীতি মূলত রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের জীবনযাত্রার ব্যাপক বৈষম্যের একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি।
এ ছাড়া, উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে কিম প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে দায়িত্বহীনতার অভিযোগে তিনি অলস কর্মকর্তাদের তিরস্কার করেন, এমনকি তার উপ-প্রধানমন্ত্রীকেও বরখাস্ত করেন।