ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বরাবরের মতোই এবারও সরব কণ্ঠে অবস্থান নিলেন পেপ গার্দিওলা। গাজার চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ। বার্সেলোনায় ফিলিস্তিনের সহায়তায় আয়োজিত এক চ্যারিটি অনুষ্ঠানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের ‘কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ কেফিয়াহ পরে মঞ্চে ওঠেন গার্দিওলা। বক্তব্যের শুরুতেই সালাম জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা গাজার মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করেছে। বিশ্বনেতাদের কড়া ভাষায় তিনি বলেন, তারা নিজেরা নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে বসে নিরীহ মানুষের মৃত্যু নির্দেশ দিচ্ছেন।
গার্দিওলা বলেন, ‘শক্তিশালীরা কাপুরুষ কারণ তারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে পাঠায় কিন্তু নিজেরা ঘরে বসে ঠান্ডায় গরম, আর গরমে এয়ার কন্ডিশনারে আরাম করে।’ রাজনৈতিক নেতাদের তিনি আখ্যা দেন ‘কুৎসিত কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে।
গাজার শিশুদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে গার্দিওলা বলেন, ‘যখন দেখি একজন শিশু গত দুই বছরে তার মায়ের জন্য কাঁদছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে, আমি মনে করি আমরা তাদের একা, পরিত্যক্ত ও অবহেলিত করে দিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সবসময় ভাবি, সেই শিশু বলছে, তোমরা কোথায়? এসে আমাদের সাহায্য কর। আর আমরা এখন পর্যন্ত তা করি নি।’
প্রায় তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পান গার্দিওলা। বক্তব্যের শেষভাগে মানবিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়েছি দেখানোর জন্য যে, আমরা দুর্বলদের পাশে আছি। এই ক্ষেত্রে সেটা ফিলিস্তিন এবং সব ন্যায়সঙ্গত কারণ।’
নিপীড়িত মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নে গার্দিওলার অবস্থান নতুন নয়। ২০১৮ সালে কারাবন্দী কাতালান নেতাদের সমর্থনে ম্যাচের সময় হলুদ রিবন পরায় ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানার মুখেও পড়েছিলেন তিনি।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব বলছে, নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষ এবং অনাহার ও রোগে মৃত্যুর হিসাব ধরলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই গার্দিওলার কণ্ঠ যেন আবারও বিশ্ববিবেককে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা।