রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগরের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত এই শিক্ষক বলেছেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
১৯ আগস্ট দেওয়া দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক আলী আসগর লিখেছেন, তার হৃদ্যন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে ওষুধ সেবন করেও শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন হচ্ছে না। তার চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সিআরটি পেসমেকার প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অসুস্থতার পাশাপাশি পোস্টে ছেলের মৃত্যুর কথাও তুলে ধরেন এই শিক্ষক। তিনি লেখেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেই গত ১৫ জানুয়ারি তার ছেলে মারা যান। ছেলের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত ম্যাকবুক প্রো বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করলেও পাসওয়ার্ড না জানায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ তুলে লেখেন, ‘আমার পুত্র আর্থিক সংকটে গত ১৫ জানুয়ারি মারা গেছে, রাবি শিক্ষক সমিতি আমার চিকিৎসার খরচ না দেওয়ায় আমি একই পথে।’
অধ্যাপক আলী আসগরের বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, ভর্তি, ফরম পূরণ, আইইএলটিএসসহ বিভিন্ন কাজে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু নিজের প্রয়োজনের সময়ে কয়েকজন ছাড়া তেমন কাউকে পাশে পাচ্ছেন না। পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘টাকা মারাত্মক জিনিস।’
‘শিক্ষক সমিতির কাছে সহায়তা চেয়েও পাইনি’
অধ্যাপক আলী আসগর তার পোস্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতি মাসে সমিতির কল্যাণ তহবিলে চাঁদা দেন এবং অসুস্থ শিক্ষকদের চিকিৎসায় সেখান থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর সময়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকারের কাছে দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এমনকি অনুদান দেওয়া সম্ভব না হলে ঋণ হিসেবে অর্থ দেওয়ার এবং তার বেতন থেকে প্রতি মাসে কিস্তি কেটে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কিন্তু তার অভিযোগ, কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। বিপরীতে অন্য এক শিক্ষককে প্রায় ২৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে পোস্টে দাবি করেন তিনি। এ বৈষম্যের পেছনে নিজের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানকে কারণ হিসেবে দেখেছেন অধ্যাপক আলী আসগর। তার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এবং ‘তোষামোদ না করায়’ তিনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাবি শিক্ষক সমিতি।
‘সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করেননি’
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ওমর ফারুক সরকার বলেছেন, অধ্যাপকের অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা’। তার দাবি, এর আগেই সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক আলী আসগরকে আড়াই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সমিতির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তিনি আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
অধ্যাপক ওমর ফারুক আরও জানান, অধ্যাপক আলী আসগরকে সহযোগিতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছিল। এমনকি আগের উপাচার্যও তাকে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু অধ্যাপককে পাওয়া যায়নি বলে দাবি তার।