পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের ছুটি। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। পড়াশুনা, চাকরি বা ব্যবসাসহ বিভিন্ন কারণে যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে ঢাকায় এসে থাকে, তারা এখন নিজ নিজ জেলায় ফিরতে শুরু করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবক্ষেত্রে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঈদের এই দীর্ঘ ছুটিতে সরকারি অফিস, আদালত এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে বড় শহরগুলো থেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে মানুষের ঘরে ফেরার ভিড় বেড়েছে। সোমবার ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সরকার ১৮ মার্চও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সোমবারই ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মব্যস্ত দিন।
ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে গত ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ঈদ ছুটি নিশ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেই সঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। যারা আগে থেকে টিকেট কেটে রেখেছেন, তারা কিছুটা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারলেও যারা আগে থেকে টিকেট কেটে রাখেননি, নতুন করে টিকেট কাটতে গিয়ে এখন তারা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। কারণ এখন একদিকে রয়েছে টিকেট সংকট, অন্যদিকে তাদেরকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়াও।
এদিকে ঈদে ঘরমুখো ঢাকাবাসীর বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ১৫ মার্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, যেসব নগরবাসীর ঈদের ছুটিতে বাসায় মূল্যবান সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কাছাকাছি কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই, তারা চাইলে স্বর্ণালঙ্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা রাখতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।