রাজধানীর উত্তরা স্কয়ার শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের নতুন করে পর দোকান খুলতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ঈদের আগে এ ধরনের ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। শপিংমলটিতে ভাঙচুরের পর সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে ওই শপিংমলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, রোববার (১৫ মার্চ) ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে মারধর করে হত্যার পর মার্কেটের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে রাজধানীর উত্তরার উত্তরা স্কয়ার শপিংমলে ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায় একদল লোক। এ সময় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গেও হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার রাত ১১টার পর ওই সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে সোমবার ভোর পর্যন্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি, হামলাকারীরা শপিংমলে ঢুকে দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্য ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ও তাদের পেছনে কারো ইন্দন রয়েছে বলেও জানান তারা। তবে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান শপিংমলটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।
পুলিশ, ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত ১১টার দিকে ওই শপিংমলের সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশা পার্কিং করে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করেন একজন চালক। এ সময় মার্কেটটির একজন নিরাপত্তাকর্মী ওই চালককে রিকশা সরিয়ে নিতে বলেন। চালক সেখান থেকে সরতে রাজি না হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মী রিকশার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন দুজনের বাকবিতণ্ডা হয়।
এ সময় আরও কয়েকজন রিকশাচালক সেখানে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর গুজব ছড়ানো হয়, একজন রিকশাচালককে হত্যা করে মার্কেটের ভেতর লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই গুজবে ওই এলাকার আরও রিকশাচালক সেখানে জড়ো হয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা মার্কেটে ইটপাটকেল ছোড়েন। এক পর্যায়ে তারা মার্কেটের নিচতলায় ঢুকে দোকানে ভাংচুর চালায়।
এ সময় সুযোগসন্ধানী কিছু মানুষ মার্কেটে ঢুকে ভাঙচুর এবং হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে নিচতলার বিভিন্ন দোকান থেকে পণ্য ও টাকা লুটপাট করে সুযোগসন্ধানীরা। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে সোনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ওই শপিংমলে কোনো রিকশাচালককে মারধর করে আটক করে রাখা হয়নি। গুজব ছড়িয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী মার্কেটে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। তবে ওই শপিং মলে হামলার ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটি হলো খাজানা। দোকানটি নিচতলা এবং সামনের দিকে হওয়ায় এই দোকানটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান খাজানার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার স্বপন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।