রাজধানীর বুকে ছিনতাইকারী চক্র কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তার প্রমাণ পাওয়া গেল আদাবরে। চাপাতি ঠেকিয়ে ডাকাতি করা অপরাধীদের ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাই। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনের ছিনতাইকারীদের এক আস্তানায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, আদাবর এলাকার একটি দোকানে আচমকাই ধারালো চাপাতি উঁচিয়ে হানা দেয় একদল ছিনতাইকারী। প্রকাশ্যে দোকানি ও সাধারণ মানুষকে চাপাতির মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয় তারা।
ছিনতাইয়ের খবর পৌঁছানোর পর অপরাধীদের ট্র্যাকিংয়ে নামে আদাবর থানা পুলিশ। ছিনতাইকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে দুপুরেই আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে।
অপরাধীদের গোপন আস্তানাটি ছিল আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের ঠিক পেছনে। পুলিশের দলটি যখন চারপাশ থেকে ছিনতাইকারীদের আস্তানাটি ঘিরে ফেলে। পরে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা অপরাধীরা হিংস্র রূপ ধারণ করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আত্মসমর্পণের পরিবর্তে তারা ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আস্তানায় ঢোকার সাথে সাথেই ছিনতাইকারীদের ধারালো চাপাতির এলোপাতাড়ি কোপ এসে পড়ে পুলিশের ওপর। ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম ও তার সাথে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ।
দুই পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা অ্যাকশনে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের পর পুরো আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চার ছিনতাইকারীকে আটক করে তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও গুলিবিদ্ধ ছিনতাইকারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীতে পুলিশের ওপর এমন নৃশংস হামলার পেছনে বড় কোনো গ্যাং বা গডফাদার জড়িত আছে কি না, তা বের করতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনের সেই স্পটে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো এলাকাটি থমথমে অবস্থায় রয়েছে।