ভারতে জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি ঠেকাতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে আগের পাঠানো বার্তা সম্পাদনার (এডিট) সুবিধাও নিষ্ক্রিয় করতে বলা হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিকে। আগামী সোমবার (২২ জুন) পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি ধারার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ওই ধারা দেশের ‘সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা’ রক্ষার স্বার্থে সরকারকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার ক্ষমতা দেয়।
মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতেও এই বিধান ব্যবহার করা হয়। তবে মোদি সরকার বলছে, আইন ও জনস্বার্থের আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ার পর মেডিকেল কলেজে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট’ (নিট) বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর মাঝেই সরকার আগামী রোববার (২১ জুন) নতুন করে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে।
এক বিবৃতিতে ভারতের ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানায়, ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিট-২০২৬ পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে সংগঠিত চক্রগুলো টেলিগ্রাম ব্যবহার করছিল। এ কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এর ফলে ভারতে টেলিগ্রামের ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কিন্তু যারা প্রশ্নফাঁস করেছে তারা নয়। প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়নি, বরং তা অন্য অ্যাপে চলে গেছে।’
ভারত সরকার জানায়, অ্যাপটি বন্ধ করায় সাধারণ মানুষের যে অসুবিধা হয়েছে, সেজন্য তারা দুঃখিত। প্ল্যাটফর্মটি থেকে আপত্তিকর কনটেন্ট সরানোর বিভিন্ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ অবলম্বন এই ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা