আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে কল-কারখানায়, অর্থাৎ শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ছুটি মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে। ভোটের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিও আছে। সেই হিসাবে অনেকে পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছে। দীর্ঘ এ ছুটি কাটাতে ও ভোট দিতে রাজধানী ছাড়ছেন কর্মজীবীরা। রাজধানী ফাঁকা হতে থাকায় রাস্তায় এখন নেই চিরচেনা ব্যস্ততা, নেই যানজট।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মানুষকে ব্যাগ নিয়ে ঢাকা ছাড়তে দেখা যায়। কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ভিড় দেখা যাচ্ছে। স্টেশন ও টার্মিনালজুড়ে মানুষের ভিড় আর ব্যস্ততা। তবে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। অনেকে টিকেট না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠছে। আবার বাসের টিকেট না মেলায় অনেককে যেতে হচ্চছে ট্রাকে করে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর, ঢুলিভিটা, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, আমিনবাজার ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ, বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশুলিয়া, জামগড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দেখা যায় ঘরমুখো যাত্রীর চাপ।
যাত্রীদের অনেকে জানিয়েছেন, কেউ কেউ যেমন ভোট দিতে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন, কেউ আবার নিজের এলাকার বাইরে অন্য কোনো এলাকায় যাচ্ছেন ঘুরতে। যদিও কোনো নির্বাচনী এলাকায় সেখানকার ভোটার বা বাসিন্দা ছাড়া অন্য কারো অবস্থানের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে, তার পরও তারা ঘুরতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে ও রাস্তায় যেমন মানুষের চাপ দেখা গেছে, তেমনি যানবাহন সংকটের অভিযোগও করছেন কেউ কেউ। পরিবহন শ্রমিকদের কয়েকজন বলছেন, সরকারের উদ্যোগে বাস রিকুইজিশন করায় রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম, ফলে যাত্রীদের কিছুটা সংকটে পড়তে হচ্ছে।
আবার ভোটগ্রহণ উপলক্ষে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচল ও বুধবার বিগাতর রাত ১২টা থেকে সারাদেশে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এ কারণেও আগেভাগেই গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে।
মোটরসাইকেল চলাচল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এবং অন্য যানবাহনগুলোর চলাচল ভোটগ্রহণের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।