বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে (এমজিআই) ‘টেকসই মার্কিন সয়াবিন (এসইউএসএস)’ লেবেল গ্রহণকারী দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন সয়াবিন রপ্তানি কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)।
রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইউএসএসইসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদ প্রদান করে। এমজিআই-এর পরিচালক তানজিমা মোস্তফা এসইউএসএস’র মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক কেভিন এম. রোপকের কাছ থেকে সনদটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এখন থেকে এমজিআই-এর সয়াবিনজাত পণ্যের প্যাকেটে এই টেকসই মার্কিন সয়াবিন স্বীকৃতি সংযুক্ত হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় মাত্র ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমজিআই এই স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী ভোজ্যতেল, পশুখাদ্য ও খাদ্যপণ্য খাতে দায়িত্বশীলভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারের গুরুত্ব বাড়ছে। সে প্রেক্ষাপটে এ স্বীকৃতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এমজিআই-এর পরিচালক তানজিমা মোস্তফা এই স্বীকৃতির জন্য ইউএসএসইসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এমজিআই সবসময় দায়িত্বশীলভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল সংগ্রহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আর এই সনদ সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের কাজকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে নিতে উৎসাহ দেবে। এতে গ্রাহকরাও আমাদের পণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আরও নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। আমরা টেকসই পদ্ধতি যুক্ত করে ভালো মানের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে চাই।’
কেভিন রোপকে বলেন, ‘বাংলাদেশে এমজিআই-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠান এই লেবেল গ্রহণে এগিয়ে আসায় আমরা আনন্দিত। এটি তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় টেকসই পদ্ধতি যুক্ত করার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রমাণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো দেশে এটি একটি দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি আমদানি করেছে এমজিআই।
এই টেকসই মার্কিন সয়াবিন লেবেলের ভিত্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক যাচাইব্যবস্থা—‘মার্কিন সয়াবিন টেকসইতার নিশ্চয়তা প্রটোকল’। এতে দেখা হয় চাষাবাদ কতটা পরিবেশবান্ধবভাবে হচ্ছে, মাটি সংরক্ষণ, পানির সঠিক ব্যবহার, বায়ুর মান বজায় রাখা এবং জমির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই বুঝতে পারে তাদের কাঁচামাল কতটা নিরাপদ ও টেকসই উৎস থেকে আসছে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে একটি স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।