আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী অধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান)-এর উদ্যোগে এবং সাইটসেভার্স-এর ‘সমতার বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। তারা বিএনপি সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য বাজেট বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি করেন। বি-স্ক্যান থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও মূল দাবিগুলো উপস্থাপন করেন বি-স্ক্যান-এর পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী এবং অভিভাবক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বি-স্ক্যান’র নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে অনুকম্পা বা দয়া চাই না, বরং বাজেটের মাধ্যমে আমাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকারের সঠিক প্রতিফলন দেখতে চাই। আমাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না দিয়ে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা অসম্ভব। সাইটসেভার্স-এর সমতার বাংলাদেশ ক্যাম্পেইনের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আমরা যৌথভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ এজন্য তিনি বিশ্ব প্রবেশগম্যতা সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সরকার অবিলম্বে প্রবেশগম্য গণস্থাপনায় বাজেটবরাদ্দ ও বাস আমদানিতে শুল্কছাড়ের দাবি জানিয়েছেন।
পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহৃত সহায়ক উপকরণ কোনো বিলাসী পণ্য নয়, এটি আমাদের স্বাধীন চলাচলের অধিকার। তাই এগুলো আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং একই সাথে প্রস্তাবিত ১০০০ কোটি টাকার উদ্যোক্তা তহবিল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের পক্ষে আরো বক্তব্য দেন মাসুদ আনোয়ার খান মিরাজ, সহসভাপতি, ভিপস; উজ্জলা বণিক, সভাপতি, এসপিইউএস; জাকির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক, ডিডিপি; হানিফ মিয়া, প্রচার সম্পাদক, জেপিকেএস ও লিয়াকত আলী, সভাপতি, এপিপিইউএস। বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রতিবন্ধী-সংবেদনশীল বাজেট বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানান।