কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা মামলা করার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। নিজেদের মিত্র কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের ‘জবরদস্তি ও হুমকি’ বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
১৯৯৬ সালে দুটি বিমান ভূপাতিতের ঘটনায় চারজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন, যা ওয়াশিংটন ও এই ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল।
ওই ঘটনায় মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার ওপর একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন এবং দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টিও প্রকাশ্যে আলোচনা করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে এদিন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, কথায় কথায় সামরিক বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করা। বেইজিং দৃঢ়ভাবে কিউবাকে সমর্থন করে।’
এর আগে বুধবার তিন দশক আগে কিউবা ও ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী আকাশে দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাউল কাস্ত্রোসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
বিবিসি জানিয়েছে, ভূপাতিত হওয়া বিমান দুটি পরিচালনা করত কিউবান-আমেরিকান ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ'। বিমান দুটি যখন গুলি করে নামানো হয়, তখন সেটিতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ মোট চারজন আরোহী ছিলেন, যাদের সবাই নিহত হন।
সেই সময় ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানো রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
বিমানে গুলির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে।
ওই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করার প্রতিক্রিয়ায় কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, বেইজিং ‘যেকোনো অজুহাতে কিউবার ওপর বাহ্যিক শক্তির চাপ সৃষ্টির চেষ্টার’ তীব্র বিরোধিতা করে।
মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, কিউবাকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে নিষেধাজ্ঞা এবং বিচার বিভাগীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা বন্ধ করা এবং কথায় কথায় সামরিক শক্তির হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা। কিউবার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় চীন তাদের পাশে আছে এবং যেকোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।’
এমন সময়ে এই ঘটনা ঘটল যখন কিউবার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে কিউবার ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি তেল সরবরাহের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস, যার ফলে কিউবায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার পর থেকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলে আসছেন, কিউবার সরকারও এবার ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’।
২০১৪ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কিউবা সফরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ২০১৮ সালে কিউবা আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেয়, যার আওতায় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে বেশ কয়েকটি কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বেইজিং।