যশোরের মনিরামপুরে ছেলের হাতে বাবার ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার ঝালঝাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাবার থাকার ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনার পর থেকে পালাতক রয়েছে কিশোর ছেলে আল-আমিন (১৯)। খবর পেয়ে মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিসের দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাবার নাম মহাসীন খান। তিনি সাতক্ষীরায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। বাবা-ছেলের পারিবারিক কলহের জেরে ছেলে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েনের মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক।
চেয়ারম্যান বলেন, বহুদিন ধরে মহাসীনের পরিবারে কলহ লেগে আছে। তাদের বাব-ছেলের মধ্যে বনিবনা নেই।
মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফায়াত হোসেন বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পরে আমাদের কাছে ঝালঝাড়া এলাকায় আগুন লাগার খবর আসে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাফায়াত হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছেন মহাসীন খানের ছেলে বাবার ঘরে আগুন দিয়েছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, ছেলে আল-আমিনের সন্দেহ তার বাবা আবার বিয়ে করেছেন। এতে বাবার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে ঘরে আগুন দিয়েছে।
মহাসীন খানের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘তিন থেকে চার মাস আগে মহাসীনের স্ত্রী ২৫-২৬ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছে। ছেলে আল-আমিনও মায়ের সঙ্গে গেছে। কয়েকদিন আগে ভিটাবাড়ি থেকে আল-আমিন গাছ বিক্রি করেছে। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় এসে বাপের ঘরে আগুন দিয়ে চলে গেছে। আমার ছেলে সাতক্ষীরায় চাকরি করে। বাড়ি থাকে না। ও নতুন করে কোনো বিয়ে করেনি।’
এদিকে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আল-আমিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মহাসীন খান বলেন, ‘ছেলে বাড়ি থেকে ৪১ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করছিল। আমি সেটা বাধা দিয়েছি। এছাড়া আল-আমিন ঘরের অনেক জিনিসপত্র আমার অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছে। ছেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।’
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, ‘ছেলের দ্বারা বাবার ঘরে আগুন লাগার ঘটনা শুনেছি। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। আমি ছুটিতে আছি। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’