খাগড়াছড়ির সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নেই কোনো ব্লাড ব্যাংক। এতে জরুরী রক্তের প্রয়োজনে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। বিভিন্ন দুর্ঘটনা, প্রসূতি রোগী, জরুরী অস্ত্রোপাচার বা থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্য জরুরী প্রয়োজনে রক্ত না পাওয়ায় বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি। রক্ত সংরক্ষণে জরুরী ভিত্তিতে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের।
খাগড়াছড়িতে প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। খাগড়াছড়ি ছাড়াও রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ির উপজেলার অধিকাংশ মানুষ খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলায় আধুনিক জেলা সদরসহ ৪০টির বেশি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থাকলেও নেই কোনো ব্লাড ব্যাংক। রক্ত সংরক্ষণের রেফ্রিজারেটর না থাকায় সময় মতো রক্ত পাচ্ছেন না চিকিৎসা নিতে আসা রোগী। বিভিন্ন দুর্ঘটনা, প্রসূতি রোগী, জরুরী অস্ত্রোপাচার বা থ্যালাসেমিয়া রোগীর জন্য জরুরী প্রয়োজন রক্ত জোগাড় করতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগী ও স্বজনরা। সময় মতো রক্ত না পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কলেজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা নির্ঝরা খীসা ও সুজেস চাকমা জানান, তাদের এক প্রসূতি রোগীর জন্য ২ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু খাগড়াছড়ি হাসপাতালে রক্তের কোনো সংস্থান নেই। বাইরে থেকে ডোনার সংগ্রহ করে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়েছে। তারা জানান সাধারন রোগীদেও কথা চিন্তা করে সরকার যেন খাগড়াছড়ি হাসপাতালে একটি ব্লাড ব্যাংক চালুর উদ্যোগ গ্রহন করে ।
খাগড়াছড়ি যুব রেডক্রিসেন্ট-এর স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগীয় প্রধান মো. জাহিদুল আলম জানান খাগড়াছড়ি ছাড়াও রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ির উপজেলার অধিকাংশ মানুষ খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসে। বিশেষত রাতের বেলায় বিভিন্ন দুঘর্টনায় আহত রোগীদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন হলেও শেষ মুর্হূতে রক্ত দেওয়া যায় না। রক্ত সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটর চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে আশ্বাস পেলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থায় খাগড়াছড়ি যুবরেডক্রিসেন্টের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী প্রতিনিয়ত রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাপ্পি চাকমা জানান, ‘বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরী রক্তের প্রয়োজন হলেও আমাদের কাছে তা সংরক্ষণ থাকে না। গভীর রাতে কোনো রোগী আসলে সেবা দিতে পারিনা। আমরা কৃর্তপক্ষ জানিয়ে চিঠি দিলেও বরাদ্দ পাইনি।’
জরুরী রক্তের সংস্থানে ব্লাড ব্যংাক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার গুরুত্বের প্রসঙ্গে আন্তজাতিক সংগঠন খাগড়াছড়ি রেডক্রিসেট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রাামের দুরত্ব বেশি হওয়ায় গুরুতর আহত বা অসুস্থ রোগীকে দ্রুত স্থানাতর করা যায় না। দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার প্রসূতি রোগী, দুর্ঘটনায় আহত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে খাগড়াছড়িতে ব্লাড ব্যাংক স্থাপন জরুরী।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘ব্লাড ব্যাংক না থাকার কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সেবা পাচ্ছে না। তার মতে আড়াই শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা সম্ভব হতো।
খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা ও সুশীল সমাজের প্রত্যাশা, রক্তের সঠিক ব্যবস্থাপনায় খাগড়াছড়িতে জরুরী ভিত্তিতে একটি কার্যকরী ব্লাড ব্যাংক স্থাপিত হলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা পাবে।