ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী উপজেলায় আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায় করার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই ইউনিয়নের দরিদ্র নারীদের টার্গেট করে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করার নাম ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ফ্যমিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারাদেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বহস্তে স্বাক্ষর। থাকলেই আবেদন করা যাবে। শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে।
এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন। চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণা পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের।
এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আসলে কি ব্যবস্থা নেয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেটাই এখন দেখার বিষয়।’