চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ও অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মামুন অর রশীদ শাওনকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা ও আদায় করা হয়।
শনিবার (৭ মার্চ ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত কার্পাসডাঙ্গা দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন ও দর্শনা পৌর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচলনার সময় এই জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টারে যারা নার্সের দায়িত্ব পালন করেন তারা কেউই নিবন্ধিত নার্স নন। নার্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ না থাকলেও তারাই নানা ধরনের ইনজেকশন পুশ করেন রোগীর শরীরে। এছাড়া রোগ পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ যিনি করেন তিনিও অনুমোদিত কেউ নন।
দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আলম বলেন, পর্যবেক্ষণের সময় লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। এছাড়া অপারেশন ও পোস্ট অপারেটিভ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা হয়নি। লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার কর্তব্যরত নার্সও রেজিস্টার্ড নন। এছাড়া পরিবেশ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরাঞ্জামাদি এমনভাবে রাখা হয়েছে যা মানবদেহের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার সব জায়গায় নিয়মিত অভিযান চলবে এবং ত্রুটিযুক্ত, অনিয়ম ও অনুমোদনহীন সকল প্রকার ল্যাব, ক্লিনিক এবং বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমান বলেন, মানহীন স্বাস্থ্যসেবা, মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে প্যাথলজি পরিচালনা, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অপারেশন রুম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন করা সনদ না থাকায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা.হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নতুন নির্দেশনার আলোকে অভিযান শুরু হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটি সিলগালা ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।