নিজের প্রথম স্বামীর সন্তানের টানে বাংলাদেশে এসেছিল ফাল্গুনী রায়। এরপরই তার জীবনে নেমে আসে দুর্গতি। তাকে মারধর করে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ভারতে ফেরত যেতে বলেন প্রথম স্বামী। বাধ্য হয়ে সীমান্তে চোরা পথে পা বাড়ায় সে। কিন্তু ধরা পড়েন বিজিবির হাতে। এরপর তার ঠাঁই হয় বাংলাদেশের কারাগারে। আট মাস কারাভোগের পর রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফাল্গুনী রায়কে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।
২০২৫ সালের জুন মাসে বৈধ পথে বাংলাদেশে আসেন ফাল্গুনী রায়। ফাল্গুনী তার প্রথম স্বামী ও ছেলে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পিরোজপুরের স্বরুপকাঠিতে যান। কিন্তু তাকে মারধর করে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
কোনো উপায় না দেখে ফাল্গুনী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানা একালায় এসে নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। এরপর পাসপোর্ট ছাড়া ভারত ফেরার উপায় খুঁজছিলেন। এক পর্যায়ে সীমান্ত পেরোতে গিয়ে বিজিবির হাতে আটক হন। পরবর্তীতে বাংলদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মহেশপুর থানার মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ঠাঁই হয় কারাগারে।
দুটি মামলায় তার জেল হয় ৪ মাস ৫ দিন। কারাভোগ শেষ হলেও দুই দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতায় তাকে ৮ মাস ১০ দিন কারাগারে থাকতে হযেছে। এরপর তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় চুয়াডাঙ্গা কারাগারে।
যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় দুতাবাস গত ডিসেম্বর মাসে ছাড়পত্র দেন। পরবর্তীতে জানুয়ারির মধ্যভাগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরাক্ষা বিভাগ থেকে চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কারণে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ আট মাসের আইনি জটিলতা শেষে রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় বাংলাদেশের দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে ভারতের গেদে সীমান্তের বিএসএফ’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিজিবি-বিএসএফ, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন, থানা পুলিশ, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।