কঠোর পরিশ্রমেও মেলেনা ন্যায্য পারিশ্রমিক। সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি ও মৎস্য খাতে নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমান কাজ করলেও পাচ্ছেন অর্ধেক মজুরি। সরকারি নীতিমালার অভাব আর সামাজিক অবজ্ঞায় এই বৈষম্য এখন চরম পর্যায়ে।
সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে শ্যামনগর— সব জায়গাতেই এখন কৃষি আর মৎস্য ঘেরের ব্যস্ততা। যেখানে ধান রোপণ থেকে শুরু করে চিংড়ি পোনা ধরা ও পিলিংয়ের কাজে বড় অংশই নারী শ্রমিক। কিন্তু দিন শেষে মজুরি হাতে পেয়ে তাদের মনে ভর করে রাজ্যের হতাশা।
আমেনা খাতুন, ফিরুজা বেগমসহ একাধিক নারী শ্রমিক নাগরিক প্রতিদিন-কে জানান, ‘সারাদিন কোমরে পানি বেঁধে ঘেরে কাজ করি। পুরুষেরা যে কাজ করে আমরাও সেই একই কাজ করি। কিন্তু, তাদের দেয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর আমাদের হাতে ধরিয়ে দেয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আমরা কি মানুষ না?’
শুধু মৎস্য ঘের নয়, কৃষিতেও চিত্রটা একই। ধান চাষের ১৭টি স্তরের অধিকাংশ ধাপেই নারীদের পদচারণা থাকলেও মজুরির বেলায় তারা বৈষম্যের শিকার। যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পান, সেখানে নারীরা পান তার অর্ধেক। সাতক্ষীরার সচেতন মহলের দাবী,প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাবেই এই বঞ্চনা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
সাতক্ষীরা ল’ কলেজের প্রভাষক ও সাতক্ষীরা জেলার হিউম্যান রাইট্স ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক-এর সদস্য সচিব অ্যাড.মুনির উদ্দীন নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, ‘‘নারীরা কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলেও তাদের কাজকে এখনো ‘সহযোগী কাজ’ হিসেবে দেখা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে এবং নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো বাস্তবায়িত না হলে নারীরা আরও পিছিয়ে পড়বে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘সাতক্ষীরার এই বিশাল নারী শ্রমিক গোষ্ঠীকে অবহেলিত রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের সমঅধিকার সাংবিধানিক অধিকারউপকূলীয় এই জনপদের নারীদের সমমজুরি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।’