সম্প্রতি দিনেদুপুরে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে সিলেটবাসীর মধ্যে। এসব ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টার্গেট করা হচ্ছে নারীদের। তবে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতরা এখনো আইনের আওতায় না আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। যদিও পুলিশ বলছে, অপরাধচক্র নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনাগুলো পরিকল্পিত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট মহানগরের সাগরদিঘীর পাড় এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রের মুখে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মহানগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ফিল্মি কায়দায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে এক নারীর কাছ থেকে টাকাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছয় ছিনতাইকারী।
এই দুটি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুধু এই দুটি নয়, সম্প্রতি এমন আরও কয়েকটি ঘটনায় সিলেটবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এতে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন মহলের মতে, শান্তিপ্রিয় শহর হিসেবে পরিচিত সিলেটে এমন ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতরা এখনো আইনের আওতায় না আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী, রাজনীতিক ও সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে অপরাধচক্রের অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা সিলেটবাসীর।