নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. দিপু (৩২)-কে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর থানার মদনপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।
দিপুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় দিপুর বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনাও ঘটত।
এছাড়াও শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার সহযোগীরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মাসোহারা আদায় এবং সাধারণ মানুষের জমি দখল করে নামমাত্র মূল্যে লিখে নেওয়ার ঘটনাও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, দিপুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের খবর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি ছুরি ও কয়েকটি লোহার পাইপ উদ্ধারসহ তাকে আটক করা হয়।
দিপু বন্দর থানার মদনপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামের মুইচা কালাম ওরফে আবু কালামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা, একটি হত্যা, আটটি হত্যা চেষ্টা, একটি ডাকাতি, একটি অপহরণ, তিনটি চাঁদাবাজি এবং দুটি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।