কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালী উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের আদর্শপাড়া এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বুশরা খাতুন (৮) নামের এক শিশু নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে আহতদের মধ্যে জান্নাতুল মাওয়া (১৪) ও কহিনুর আক্তার (৩০)-এর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত বুশরা খাতুন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফরিদ আহম্মদের মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন— ফারেজ (৫), ফায়জা (৩) ও দেলোআরা (৬০)। তাদের মধ্যে ফারেজ মাথায় আঘাত পেয়েছে। বর্তমানে তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রামু তুলাবাগান হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জিরপাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ফরহাদ (৩২) নামের এক যুবক নিহত হন। নিহত ফরহাদ উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণ খোন্দকারপাড়া গ্রামের নুরুল হাসেমের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফরহাদ মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। বর্তমানে তার বাবা কর্মক্ষম নন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন ফরহাদ। তিনি দুই সন্তানের জনক।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।