গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক এএসআই-এর বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুরের ৪নং ওয়ার্ডের সারদাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে একটি অটো মেরামতের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। আর ওই এলাকার অনেক অটোরিকশা চালকই তার দোকানে গাড়ি মেরামত করান। তাদেরই একজন রাকিব, যিনি নিয়মিত ওয়াসিমের দোকানে আসতেন।
প্রায় এক বছর পর হঠাৎ একদিন রাকিব এসে জানান, তার মা গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকার প্রয়োজন। মানবিক কারণে ওয়াসিম তাকে কিছু টাকা ধার দিতে না পারলেও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। কয়েকদিন পর আবার এসে রাকিব কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার মা হাসপাতালে মারা গেছেন এবং হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে জরুরি অর্থ দরকার।
এসময় রাকিব তার অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি বিক্রির প্রস্তাব দেন। প্রথমে ওয়াসিম এতে রাজি না হলেও মায়ের মৃত্যুর কথা বলে রাকিব কান্নাকাটি করে অনুরোধ করতে থাকেন। নিজের কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে ওয়াসিম আশপাশের কয়েকজন দোকানদারের কাছ থেকে টাকা ধার করে সবার সামনে রাকিবকে ২৭ হাজার টাকা দেন এবং ব্যাটারিগুলো কিনে নেন।
কিন্তু ঘটনার কয়েকদিন পর এক ব্যক্তি এসে দাবি করেন, ওই অটোরিকশা ও ব্যাটারিগুলো তার। পরে ওই ব্যক্তির ডাকে ঘটনাস্থলে এসে রাকিবকে আটক করে এবং ব্যাটারি বিক্রির সেই টাকাও নিয়ে নেয় পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, এরপর পুলিশ রাকিবকে গাড়িতে তুলে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ওয়াসিম মিয়া নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে পুলিশের এএসআই রুস্তম আলী উল্টো তাকে চোরাই ব্যাটারি কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ও চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকেও টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ওয়াসিম টাকা দিতে অস্বীকার করলে এবং আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিবাদ জানালে এএসআই রুস্তম আলী ও তার টিমসহ সেখান থেকে দ্রুত চলে যান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ওয়াসিম মিয়া বলেন, ‘মানবিক কারণে সবার সামনে ব্যাটারিগুলো কিনেছিলাম। কিন্তু পরে পুলিশ এসে জোর করে ব্যাটারি নিয়ে গেল, আমার দেওয়া টাকাও ফেরত দিল না। উল্টো আমার কাছ থেকেই টাকা দাবি করেছে। পুলিশের এমন আচরণে আমরা ব্যবসায়ীরা খুবই আতঙ্কিত।’
ব্যাটারি বিক্রির ২৭ হাজার টাকা ওয়াসিমকে ফেরত না দিয়ে তা নিজেদের কাছে রাখা এবং রাকিবের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই রুস্তম আলী বলেন, ‘আসেন সামনাসামনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলি বলে কল কেটে দেন।’
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, এভাবে নিরীহ মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হলে মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা কমে যাবে। তারা দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার(কোনাবাড়ী জোন) আবু মোহাম্মদ নাসের আলামিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।