কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি মৃত ডলফিন। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈকতে অর্ধগলিত অবস্থায় ডলফিনটিকে দেখতে পান লাইফগার্ড কর্মীরা। সৈকতে দায়িত্ব পালনরত লাইফগার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টু জানান, সকালে টহল দেওয়ার সময় তারা ডলফিনটিকে দেখতে পান। তিনি বলেন, ডলফিনটি প্রায় ছয় ফুটের বেশি লম্বা। কয়েকদিন আগে মারা যাওয়ায় শরীরের কিছু অংশ পচে গেছে। পরে বিষয়টি বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, এটি বিরল প্রজাতির ইরাবতী ডলফিন হতে পারে, যা সাধারণত বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অগভীর পানিতে বিচরণ করে।
এ বিষয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা কক্সবাজারের আহবায়ক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে আটকে অথবা চলন্ত জাহাজের ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে ডলফিনটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছে এবং স্রোতের টানে ভেসে সৈকতে চলে এসেছে।
তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরে ডলফিনসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু প্রায়ই ঘটে, যার একটি বড় কারণ হলো অবৈধ জাল ব্যবহার, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি। এসব কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
সৈকতে মৃত ডলফিনটি দেখতে অনেক পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ডলফিনটি অপসারণ করে যথাযথভাবে মাটিচাপা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও জেলেদের জন্য পরিবেশবান্ধব মাছ ধরার পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে লোক পাঠাচ্ছি, ডলফিনটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’