স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সরকারি অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক কথিত সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রউফ বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ গঠনের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকটি সেলফি প্রকাশ করেন আব্দুর রউফ। এরপর থেকে সেই ছবি দেখিয়ে নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা জাহির করে বেড়াতে শুরু করেন।
রমজান মাসের শুরু থেকে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনের কাছে মুঠোফোনে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন রউফ।
রোববার সকালে সরাসরি অফিসে এসে আবারও ওই টাকা দাবি করলে অফিসের কর্মচারীরা তাকে আটক করেন এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।
সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসের শুরু থেকেই আব্দুর রউফ নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। রোববার সকালে অফিসে এসে একই দাবি করলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।’
মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘আমি যখন অফিসে থাকি না সেই সময়টা বেছে নিয়েই এই আব্দুর রউফ বারবার আমার অফিসে আসে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একইসঙ্গে আমি লিখিত আবেদন করব সরকারি কাজে বাধাদানের কারণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।'
মেহেরপুর সদর থানার ওসি তদন্ত শিমুল দাস বলেন, ‘চাঁদাবাজি চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তিকে সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এনেছে। সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মেহেরপুর সদর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের হয়েছে।’
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন আব্দুর রউফ। গত বছর গাংনী উপজেলায় চাঁদা আদায়ের চেষ্টাকালে তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করলে, তখন সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অপরাধে অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের মুখে পড়েছিলেন এই আব্দুর রউফ।