দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল-জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরায় একটি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষকরা ইরি-বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলায় মোট দেড় শতাধিক খাল রয়েছে। এর মধ্যে চলতি জুন মাসের মধ্যে জেলার ১৬টি খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মহম্মদপুর উপজেলার নারায়ণপুর খালের ৯৫৫ মিটার অংশ খননের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন-মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান সুজন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর জামান, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান এবং মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য মিথুন রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে একসময় দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার আবারও খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, খাল সচল থাকলে কৃষক ইরি-বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে সহজেই সেচ দিতে পারবেন। খালে সারা বছর পানি থাকলে কৃষক সঠিক সময়ে জমিতে পানি দিতে পারবেন, ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে খাল খনন কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বালুমহল দখল, বাজার দখল ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধ বন্ধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ব্যর্থ হওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসেনি বর্তমান সরকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা।