বিদেশের মাটিতে বসবাস করলেও নিজের জন্মভূমি ও এলাকার মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ অটুট রেখেছেন রাঙামাটির তরুণ প্রবাসী ইমতিয়াজ রাকিব। প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার এই উদ্যোগে রাঙামাটি শহরে প্রায় দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হচ্ছে।
জানা যায়, রাঙামাটি শহরের আলম ডকইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস সওদাগরের ছেলে ইমতিয়াজ রাকিব দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন।
প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ভুলে যাননি নিজের শিকড়কে। বরং প্রবাসে অবস্থান করেও নিয়মিতভাবে নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় দুই শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহার বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
ঈদ উপহারের প্যাকেটে রয়েছে আলু, বাঙলা সেমাই, লাচ্চা সেমাই, নুডুলস, মটর, চিনি, দুধ, হালিমসহ ঈদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নিত্যপণ্য, যা পেয়ে খুশি হয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো।
শুধু ঈদ উপহারই নয়, চলতি রমজান মাসজুড়েও এলাকার দরিদ্র মানুষের পাশে ছিলেন ইমতিয়াজ রাকিব। তার উদ্যোগে রমজানের শুরু থেকেই বিভিন্ন পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ফলে অনেক অসহায় পরিবার স্বস্তিতে রোজা পালন করতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রবাসে অবস্থান করলেও ইমতিয়াজ রাকিবের এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এলাকার একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। তারা নিয়মিতভাবে তালিকা তৈরি, উপহার প্যাকেট প্রস্তুত এবং সেগুলো সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। তরুণদের এই সম্মিলিত উদ্যোগে পুরো কার্যক্রমটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রবাসে থেকে নিজের এলাকার অসহায় মানুষের কথা মনে রাখা এবং নিয়মিত তাদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই বিরল একটি উদ্যোগ। অনেকেই মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের জন্য ইমতিয়াজ রাকিবের এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে ইমতিয়াজ রাকিব জানিয়েছেন, প্রবাসে থাকলেও নিজের এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধ সবসময়ই রয়েছে। সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।
স্থানীয়দের মতে, দূর প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে চেষ্টা ইমতিয়াজ রাকিব চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।