পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিকে ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এখন পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ছুটির পুরো সময়জুড়ে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকবে সৈকত এলাকা।
সৈকতজুড়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেট স্কি, বিচ বাইক, ঘোড়া, কিটকট, ফটোগ্রাফিসহ নানা বিনোদনমূলক সেবা সাজিয়ে রাখা হয়েছে পর্যটকদের জন্য। পাশাপাশি শামুক-ঝিনুক, শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও নতুন করে সাজিয়েছেন তাদের দোকান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজান মাসজুড়ে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা কিছুটা স্থবির ছিল। তবে ঈদকে সামনে রেখে পর্যটক বাড়লে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।
পর্যটকদের আবাসনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। ইতোমধ্যে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হোটেলগুলোতে থাকছে বিশেষ আয়োজন—বুফে, লাইভ মিউজিক ও নানা রকম বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ঈদের মূল ভিড় শুরু হবে ২৩ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে, তবে ১৯ মার্চ থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে পারে। প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে—ইউনিফর্মধারী পুলিশ, সাদা পোশাকের নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সি সেফ লাইফ গার্ড। বর্তমানে লাইফগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে কয়েক ডজন কর্মী দায়িত্বে রয়েছেন। পর্যটকদের শুধু নির্ধারিত পয়েন্ট—লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলীতে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ সমুদ্র এখন কিছুটা উত্তাল।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম ও গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে। প্রতিটি টিম পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
ফটোগ্রাফার একরাম উদ্দীন জানান, রমজানে পর্যটক কম থাকায় তেমন কাজ পাননি। তবে ঈদকে সামনে রেখে এখন পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি, ফলে কাজের সুযোগও বাড়বে। এ ছাড়া কিটকট ব্যবসায়ী আমির হামজা বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা তেমন জমেনি। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক বাড়লে ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ ছাড়া আচারের দোকানদার মুজিব উল্লাহ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের বার্মিজ আচার, চকলেটসহ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নানা পণ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা সাধারণত আচার, চকলেট ও শুঁটকি কিনতে বেশি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে ভ্রমণ আগ্রহ বেড়েছে। ফলে এবারের ঈদে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।