খুলনার কয়রা উপজেলায় ভিজিএফের চাল দেওয়ার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গলাধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাব্বর আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ। তিনি পেশায় দিনমজুর। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (১৮ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
জানা যায়, মঙ্গলবার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত দুস্থদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। তালিকাভুক্তরা চাল নিয়ে যাওয়ার পর একাব্বর আলী সেখানে গিয়ে ইউপি সদস্যের কাছে জানতে চান তালিকায় তার নাম রয়েছে কি না। ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান তালিকা দেখে জানান, তার নাম নেই।
এরপর একাব্বর আলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের কাছে গিয়ে চালের জন্য অনুরোধ করেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগালি করে সেখান থেকে বের করে দেন। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার গেলে চেয়ারম্যান তাকে গলাধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
ভুক্তভোগী একাব্বর আলী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, রোজগার করার আর কেউ নেই। চাল দেওয়ার খবর শুনে গিয়েছিলাম। চেয়ারম্যানের কাছে চাইতে গেলে ঘাড় ধরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।’
প্রত্যক্ষদর্শী শাহারুজ্জামান বলেন, একাব্বর আলী বারবার চালের জন্য অনুরোধ করছিলেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বিরক্ত হয়ে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৯৫৬ জন দুস্থের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে চাল বিতরণের তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান বলেন, ‘চাল বিতরণের সময় ওই বৃদ্ধ এসেছিলেন। তালিকায় নাম না থাকায় তাকে চলে যেতে বলি। পরে শুনেছি চেয়ারম্যান তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।’
অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, তালিকায় নাম না থাকায় তাকে পরে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, বারবার বিরক্ত করায় চেয়ারম্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “ইউএনও’র কাছে যখন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তিনি তদন্ত করে দেখবেন। এর বেশি কিছু বলার নেই।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, অফিস খোলার পর অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।