ঈদের আর একদিন বাকি। এরমধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাদে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি চলছে। রাজধানী ঢাকার আশেপাশের কর্মজীবীরা পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে গন্তব্যে ছুটছেন। ফলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীদের ভীড় বেড়েছে। অনেক যাত্রী পরিবহন বাস না পেয়ে পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
যশোরগামী যাত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সাভার থেকে পিকআপে করে পাটুরিয়া যাচ্ছি। সাভার রেডিও কলোনি স্ট্যান্ডে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরিবহন বাস থাকলেও সিট পাইনি। এতো দূরের পথ মহিলা মানুষ হিসেবে দাড়িয়ে যাওয়াও কষ্টদায়ক। তাই পিকআপে করে পাটুরিয়া যাচ্ছি। নদীপার হয়ে বাসে করে যশোর যাব।’
ফরিদ মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসগুলো গাবতলী থেকেই পরিপূর্ণ হয়ে আসে। ফলে মাঝামাঝি স্ট্যান্ডের যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার জায়গাও থাকছেনা। নবীনগর থেকে আরিচা যাচ্ছি পিকআপে করে। ভাড়া একটু বেশি হলেও বাসেও চেয়ে আরামদায়ক।’
লুৎফর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা নয়জন সহকর্মী একই কারখানায় কাজ করি। গতকাল কারখানা ছুটি হলেও আজ সবাই মিলে একসাথে পিকআপে করে পাটুরিয়ার উদেশ্যে রওনা দিয়েছি। একেকজনের বাড়ি একেক জেলায়। পাটুরিয়া পর্যন্ত পিকআপে একসাথে যাব, তারপর নৌরুট পার হয়ে আলাদাভাবে বাসে যাব।’
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি হারুন অর রশিদ বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ। এ থানার ২৬ জন পুলিশ সদস্য তিন শিফটে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনটি টহল টিম ও মোটরসাইকেল টহল দিচ্ছেন। যেসকল পিকআপ নিয়ম মানছেন সেগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে।
গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া হাইওয়ে থানার আওতাভুক্ত মহাসড়কে টহল টিম জোড়দার করা হয়েছে। কালামপুর ও নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফিক্সড টহল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। একটি মোবাইল টিম পালাক্রমে থানা এলাকায় টহল দিচ্ছেন। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।