বেশ কয়েক বছর পর আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সিলেট। পুরনো অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম কাটিয়ে এবার ঈদ ভ্রমণ নির্ভিগ্ন হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। পাথর লুটকাণ্ডের পর ইমেজ সংকটে পড়া এ অঞ্চলের পর্যটন খাত নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর প্রশাসনের ঢিলেঢালা অবস্থার সুযোগে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। বিশেষ করে গেল বছরের আগস্টে সাদা পাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাট পুরো পর্যটন খাতকে বড় ধরনের সংকটে ফেলে।
তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লুট হওয়া পাথর পুনঃস্থাপনসহ বিভিন্ন স্পটে পাথর ও বালু লুট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একসময় পর্যটকের আগমন কমে গেলেও এবারের ঈদকে ঘিরে আবারও পর্যটন খাতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মহাসড়কে যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো জরুরি। পাশাপাশি ঈদ মৌসুমে বিমান ভাড়া কমানো হলে পর্যটক বাড়বে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মাহদী সালেহীন বলেন, পর্যটন খাতকে টেকসই করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর বিকল্প নেই।
পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, ঈদে পর্যটকদের ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়তে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কার্যকর রাখা হবে। অন্যদিকে ট্যুর অপারেটররা বলছেন, সিলেটের নতুন পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিপাসুরা ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা পাবেন।
সিলেট চেম্বারের উপ-কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ইমেজ সংকট কাটিয়ে নির্বাচিত সরকারের অধীনে পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত ঘুরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।