সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এবারও চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার (২০ মার্চ)। এরইমধ্যে ঈদ উদযাপনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তারা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে রমজান মাস শুরু হয়। ওই দিন থেকেই এসব গ্রামের মুসলমানের একাংশ রোজা পালন শুরু করেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর অনুসারিরা বিগত ১৯২৮ সাল থেকে এভাবেই ধর্মীয় উৎসবগুলো উদযাপন করছেন।
এ দরবার শরীফের অনুসারীরা সারাদেশের সঙ্গে মিল না রেখে একদিন আগে রোজা পালন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। জেলার হাজীগঞ্জ ছাড়াও ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও শাহরাস্তি উপজেলার এমন অর্ধশত গ্রামে এমন নিয়ম চালু রয়েছে।
সাদ্রা দরবার শরীফের বর্তমান পীরজাদা মুফতি আরিফ চৌধুরী জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘কেবল সৌদি আরব নয়, চন্দ্র মাস হিসেব করে বাস্তবতার আলোকে আমরা রোজা পালন করেছিলাম। এটি মনগড়া কিংবা হটকারি কোনো সিদ্ধান্ত নয়।’
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার পরই এখানে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। একই বংশের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মাওলানা আবু ইয়াহিয়া মো. জাকারিয়া আল মাদানী জানান, তার বাবা মাওলানা ইসহাক (র.) অত্যন্ত কামেল ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। সেই ১৯২৮ সালে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন ব্যাখ্যা করেই এমন রীতিনীতি চালু করেন তিনি। ফলে তার দেখানো পথ ধরেই আজ আমাদের দেশের বহুস্থানে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে। তবে তিনিও একই এলাকায় আলাদাভাবে ঈদের জামাতের ইমামতি করবেন বলে জানান।
জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার টোরা মুন্সিরহাট বাজার জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শামছুল আরেফিন জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এসব গ্রামের মুসলমানের একাংশ রোজা পালন শুরু করেন। তবে বৃহস্পতিবার সাদ্রা দরবার শরীফের পাশের একটি বাড়িতে কয়েকজন মিলে ঈদ উদযাপন করেন। এসময় একটি বাড়ির উঠানে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন, প্রবীণ ব্যক্তি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকী। তার দাবি ছিল, আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ঈদ হচ্ছে। সুতরাং আমাদেরও ঈদ উদযাপনে বাধা নেই।
এর আগে তার পক্ষে এলাকায় ঈদের জামাত নিয়ে মাইকিং করা হয়। কিন্তু তাতে তেমন সাড়া না পড়ায় তিনি, একশিশু ও পাঁচ জনকে নিয়ে ঈদের নামাজ করেন।