জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর আকস্মিক চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার নগরীর কাট্টলি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসভবনে হাসনাতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মনজুর আলমের রাজনৈতিক পথচলা বরাবরই ছিল পরিবর্তনশীল। রাজনীতি ছাড়াও নিজ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় চট্টগ্রামে তার একটি অবস্থান রয়েছে।
যদিও আওয়ামী লীগের কোনো কমিটি এবং পদ-পদবীতে কখনো ছিলেন না তিনি। তবে পারিবারিকভাবে তাদের পরিবার আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে তার ভাতিজা চট্টগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগের সমর্থনে ১০নং উত্তর কাট্টলি ওয়ার্ড থেকে পরপর তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
পরে তিনি ২০১০ সালে ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে বিএনপির সমর্থন নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র হয়ে আলোচনায় আসেন। ওই নির্বাচনে তিনি প্রয়াত মেয়র ও আলোচিত রাজনীতিবিদ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দেশজুড়ে চমক সৃষ্টি করেন।
এরপর বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে তৎকালীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সফর করলে মেয়র মঞ্জুর তাকে শুভেচ্ছা জানান।
পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক অবস্থানে আবার পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও পাননি। এর মাঝেই ২০২৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে ১০৩ ফুটের বিশাল কেক কেটে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। সবশেষ তিনি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ফুলকপি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ৩৯ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে হেরে যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবার সক্রিয় হন মনজুর আলম। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রামের জনসভায় তার ব্যবস্থাপনায় নাস্তা ও পানি বিতরণের ঘটনা নজরে আসে।
আবার গেল রমজানে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে তার অনুদান এবং পানির বোতলে তার ছবি থাকা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
সবশেষ চলতি সপ্তাহে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর তার নিজ বাসায় আগমন নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি মনজুর আলম এবার এনসিপির রাজনীতির দিকেই ঝুঁকছেন?
রাজনৈতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তরুণদের দল এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন মনজুর আলম। যার ফলে নগরজুড়ে মানুষের মনে প্রশ্ন—মনজুর আলম আসলে কোন দলের? আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নাকি এনসিপির?