ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ ‘তিতাস-৩১’-এর খননকাজ শুরু হয়েছে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীর এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলা-এর পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল জলিল প্রামাণিক। এ সময় চীনের খনন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান জানান, দেশে এর আগে এতো গভীর কোনো গ্যাসকূপ খনন করা হয়নি। এই কূপ থেকে চারটি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘তিতাস-৩১’ কূপটি খনন করা হচ্ছে। কূপটির কাজ সম্পন্ন হতে আনুমানিক ২১০ দিন সময় লাগবে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় চারটি সম্ভাবনাময় স্তরে অনুসন্ধান চালানো হবে। এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত, বিস্তৃতি ও সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর একই প্রকল্পের আওতায় তিতাস ফিল্ডে ‘তিতাস-২৮, ২৯ ও ৩০’ এবং গাজীপুরের কামতা ফিল্ডে একটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্প থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘তিতাস-২৮’ কূপ থেকেই প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।