প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর আনন্দীপুর গ্রামে অবস্থিত রেনেসাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এক সময় যেখানে কয়েকশ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকত ক্যাম্পাস, আজ সেখানে বিরাজ করছে নীরবতা। চারতলা বিশাল ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও নেই শিক্ষার্থীদের কোলাহল, নেই সেই প্রাণচাঞ্চল্য। ৪০০-৫০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা থাকা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে পড়াশোনা করছে মাত্র ২৬ জন ছাত্রী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের কারণেই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ ধুঁকছে। আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে একসময় শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে এলেও বর্তমানে দিন দিন কমছে ভর্তি সংখ্যা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতি, দুর্ব্যবহার এবং একক সিদ্ধান্তে বিদ্যালয় পরিচালনার কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অভিভাবকরাও প্রধান শিক্ষকের আচরণে ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, অভিভাবকদের সঙ্গেও প্রায়ই করা হয় দুর্ব্যবহার, যার ফলে তারা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরাও রয়েছেন চরম আতঙ্কে। তাদের ভাষ্যমতে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুললেই চাকরি হারানোর ভয় রয়েছে। এমনকি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তারা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলো নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো মেলেনি কোনো কার্যকর প্রতিকার।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলছে। অথচ সেদিনই এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা ছিল। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন জানান, তিনি ব্যস্ত থাকায় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, অভিযোগগুলো নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত করে অনেক অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ? এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন।
এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় অচিরেই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম— এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।