ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা, মারধর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন একই এলাকার ছাদেকুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত।
সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের তরিকুল ইসলাম বিলকু, আজিজুল হক, হালিমা খাতুন (হালি), সাদ্দাম হোসেন, সবুজ, লিটন ও এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাদেকুল ইসলাম জানান, সালন্দর মৌজার ১৮৬১/২৫৯৪, ৬৩৯ ও ৬৪১ নম্বর দাগে মোট ৩৭.৪৮ একর জমি তিনি বাৎসরিক ভিত্তিতে তরিকুল ইসলাম বিলকুকে বর্গা দেন। মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে এ বর্গা দেওয়া হয়, যেখানে স্থানীয় আমির আলী মধ্যস্থতা করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তরিকুল ইসলাম বিলকু চুক্তি ভঙ্গ করে জমি দখলের বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ছাদেকুল।
তিনি আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত পক্ষ কোনো অর্থ প্রদান করেনি। এর প্রেক্ষিতে গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে তিনি শ্রমিক নিয়ে জমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলাম বিলকু ও তার স্ত্রী হালিমাসহ সহযোগীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
ছাদেকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পরদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পঞ্চগড় রোডে এনামুল পাম্পের দক্ষিণে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় আবারও তার পথরোধের চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি পুনরায় আহত হন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
তিনি দাবি করেন, কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় পরিকল্পিতভাবে তার জমি দখলের চেষ্টা চলছে। আর এসব কাজে সরাসরিভাবে ইন্ধন দিচ্ছে তার আপন ছোট ভাই শরিফুজ্জামান বাবু।
এদিকে ছাদেকুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা আক্তার বলেন, তার স্বামী একজন নিরীহ মানুষ এবং তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন।
ছাদেকুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।