সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে এক চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পায়ে ১০ কেজি ওজনের লোহার শিকল ও বেড়ি নিয়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী তরুণী মিতু। অভাবের তাড়নায় সুচিকিৎসা না হওয়ায় নিজ বাড়িতেই তিনি এখন এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই মিতু মানসিক ভারসাম্যহীন। আট বছর আগে বাবা আবুল মোড়ল মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব পড়ে মা হাসিনা বেগমের ওপর। নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবার বাধ্য হয়েই মিতুর পায়ে শিকল পরিয়ে রাখে। বর্তমানে মিতুর ভাই ঢাকাতে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ চললেও মিতুর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এভাবে শিকলবন্দী রাখাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, পারিবারিক অভাবের কারণে একটি মেয়ের জীবন এভাবে অন্ধকারের দিকে চলে যেতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দারা মিতুর সুচিকিৎসার জন্য বিত্তবান ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন।
তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, মিতুর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
বর্তমানে মিতুর মা ও স্বজনরা স্বপ্ন দেখছেন, একদিন মিতুর পায়ের শিকল খুলবে এবং সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।