সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে ছেলের মোটরসাইকেলের তেল সংগ্রহ করতে প্রখর তাপদাহ উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক মা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনে এ চিত্র দেখা যায়।
জানা গেছে, বিথিকা রানী বৈদ্য নামের ওই নারী তার ছেলে সাগর বৈদ্যের মোটরসাইকেলের জন্য তেলের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সাগর বৈদ্য পেশায় একজন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক। গত ৫ দিন ধরে ফিলিং স্টেশনটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েন তিনি। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বর্তমানে তিনি কৃষি শ্রমিকের কাজ করছেন। ছেলের অবর্তমানে পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন মা বিথিকা রানী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে বুড়িগোয়লিনি ইউনিয়নে তেল বিতরণের সময় ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সে সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির হাতে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন। এর প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার অভাবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ টানা ৫ দিন তেল বিক্রি বন্ধ রাখে।
জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছালে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইউনিয়নভিত্তিক তেল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চালকদের তেল দেওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ তেল মিলবে এমন খবরে সকাল থেকেই পাম্পের সামনে শত শত মোটরসাইকেলের ভিড় জমে।
৩ সন্তানের জননী বিথিকা রানী বলেন, ‘আমার ছেলে বাইক চালিয়ে আর কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। তেল না পেয়ে ও এখন অন্যের জমিতে কাজ করতে গেছে। আমি গতকাল থেকে তেলের জন্য ঘুরছি। আজ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কখন তেল পাব জানি না।’
বর্তমানে ডেমলা ফিলিং স্টেশনের সামনে প্রায় ২-৩ কিমি দীর্ঘ লাইনে কয়েকশ মোটরসাইকেল চালককে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খল কিছু ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে আবার তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এখানে সুষ্ঠুভাবে তেলের বন্টন বিষয়টি নিশ্চিত হলে সকলের তেল পাবে এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।