যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন- এমন খবর প্রকাশের পর তার পরিবার, সহপাঠী ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নাহিদা বৃষ্টি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া দেহাবশেষের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আকাশ স্মৃতি নামের এক সহপাঠী বলেন, ‘বৃষ্টি সবসময় খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার মতো একজন মানুষকে এভাবে হারাতে হবে- এটা আমরা কখনো ভাবতে পারিনি। এই খবরটা আমাদের পুরো ব্যাচ ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে।’
নিলুফার ইয়াসমিন নামের অন্য এক সহপাঠী বলেন, ‘নাহিদা শুধু ভালো ছাত্রীই ছিল না, সবার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করত। বিদেশে গিয়ে সে দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তার এভাবে চলে যাওয়া সত্যিই কষ্টের এবং অবিশ্বাস্য।’
এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত ১৬ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, নাহিদা বৃষ্টি নোবিপ্রবির একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এমন মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।