কুষ্টিয়ায় কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আলমগীর হোসেন (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা তছিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আলমগীরের বাবা তছিকুল ইসলাম জানান, ‘রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, ‘রাতে আলমগীর পড়াশুনা করে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ রাত ২টার দিকে এসে আলমগীরকে কথা আছে বলে ডেকে তোলে। এরপর আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে দেখেন পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। আলেয়া খাতুন জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়। সকালে তাকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।’
রোজিনা খাতুন আরও জানান, পীর শামীম বাবার দরবারে হামলার দিন আলমগীর সেখানে ছিল না। সে দুপুরে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরার পর কারেন্টের বিষয়ে তার মাকে জিজ্ঞাসা করলে আমার বোন আলেয়া দরবারের হামলার ঘটনার কথা জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোক আগুন নেভানোর সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে আলমগীর দরবারে যায়। সে সময় সেখানে অনেক লোক ছিল। হামলার সময় আলমগীর সেখানে ছিল না।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর ইসলাম জানান, রাত আড়াইটার দিকে আলমগীর নামে ১৬ বছরের এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। এখানে হামলার ঘটনার দিনের ফুটেজ পর্যালচনা করেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে একই মামলায় গত রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামে কথিত এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসী।
এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করেন তারা। এই ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পরবর্তীতে গত ১৩ এপ্রিল নিহত শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই চারজনের নাম উল্লেখসহ ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।