মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ অনুযায়ী, নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ দলিলসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আর এই অর্থ সরাসরি নিচ্ছেন তাওহীদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি, যিনি অফিসের কোনো সরকারি কর্মচারী নন, বরং কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নেই। তাওহীদের মাধ্যমেই কাজ করাতে বাধ্য করা হয়। প্রতিটি সেবার বিপরীতে নির্ধারিত ফি’র বাইরে বাড়তি টাকা দিতে না চাইলে ফাইল আটকে রাখা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবা প্রত্যাশী বলেন, জমির খাজনা পরিশোধেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। যেখানে নামজারির সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা, সেখানে তাওহীদের হাতে গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই বাধ্য হয়ে এই অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাওহীদ হোসেন। তার ভাষ্য, ‘স্যার কম্পিউটারের কাজ ভালো বোঝেন না, তাই আমি সহযোগিতা করছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’
এদিকে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কম্পিউটার ও খাজনা সংক্রান্ত কাজে সহায়তার জন্যই তাকে রাখা হয়েছে। তিনি কোনো অতিরিক্ত টাকা নেন না। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশেই তাকে রাখা হয়েছে।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি অফিসে বহিরাগত দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অফিসে বহিরাগত ‘দালাল’ কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, আর প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।