বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর এলাকায় বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত হরশিদ ঢালীর ছেলে রবীন্দ্রনাথ ঢালী (৪২)-এর সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত আব্দুল সত্তার হাওলাদারের ছেলে আব্দুল সোবহান হাওলাদার (৬২)-এর মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল সোবহান হাওলাদার তার ছেলে মিরাজ হাওলাদারসহ ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঢালীর বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রবীন্দ্রনাথ ঢালীর দাবি, হামলাকারীরা ঘরের বেড়া ও চালের টিন ভেঙে ফেলে এবং নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলায় তার স্ত্রী সীমা, মা দুলালী রানীসহ কয়েকজন প্রতিবেশী আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শরণখোলা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. মামুন গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন জোমাদ্দার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাদল পৃথকভাবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল সোবহান হাওলাদার ও তার ছেলে মিরাজ হাওলাদার দাবি করেন, জমিটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছে। এখন মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে খবর পেয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হকের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।