সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উৎসব শুরু হলেও দ্বিতীয় দিনে আমের বাজারে বইছে বিষাদের সুর। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম পাড়া শুরু হলেও জেলা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারসহ বিভিন্ন মোকামে ক্রেতা ও পাইকারদের দেখা মিলছে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চরম হতাশায় দিন পার করছেন স্থানীয় আম চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (৬ মে) সকালে সুলতানপুর বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি আমের ঝুড়ি সাজানো থাকলেও নেই কোনো হাঁকডাক।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুর এই সময়ে মূলত গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে আসা বড় পাইকারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
চাষিদের অভিযোগ, প্রতি মণ গোবিন্দভোগ আম ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায় বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে বাজারে তা ১৮০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
আম চাষি রবিউল ইসলাম জানান, গরমের কারণে আম দ্রুত পেকে যাচ্ছে, অথচ বাজারে ক্রেতা নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে আম ছাড়তে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ ওঠানোই দায় হয়ে পড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত তিনটি কারণে এই স্থবিরতা-ইউরোপের বাজারে আম পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। সাতক্ষীরার প্রধান আকর্ষণ ‘হিমসাগর’ আগামী ১৫ মে’র আগে বাজারে আসার সুযোগ নেই। বড় পাইকাররা মূলত হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের জন্যই অপেক্ষা করছেন এবং প্রচণ্ড গরমে আমের মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাইরের জেলা থেকে পাইকাররা আসা শুরু করলে এবং রফতানি প্রক্রিয়া সচল হলে বাজারের এই স্থবির ভাব কেটে যাবে।
তবে আপাতত লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে সাতক্ষীরার আম সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের।