ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ১১টি পরীক্ষার খাতা। শনিবার (৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব খাতা দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে হাঁটাহাঁটির সময় প্রথমে তারা কিছু খাতা পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে খাতাগুলো হাতে নিয়ে দেখা যায়, সেগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের পরীক্ষার উত্তরপত্র। খাতার ভেতরে শিক্ষার্থীদের লিখিত উত্তর থাকায় বিষয়টি মুহূর্তেই গুরুত্ব পায় এবং এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরীক্ষার খাতা একজন শিক্ষার্থীর পুরো বছরের পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এমন গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর যদি খাতা হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়, তাহলে একটি শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কৃষ্ণ নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে ন্যাশনালে যারা পড়াশোনা করি তাদের কোনোভাবেই মূল্যায়ন করা হয়না। একই সাব্জেক্ট বারবার পরীক্ষা দিয়েও পাশ আসে না। বোর্ড চ্যালেঞ্জ এর পরে আবার পাস আসে। তাহলে তারা কেমন খাতা পর্যবেক্ষণ করে তা বোঝা যায়।’
স্থানীয় পথচারীরাও ঘটনাটিকে ‘চরম অবহেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে খাতাগুলো রাস্তায় এলো, কার দায়িত্বে ছিল এবং কোনো অবহেলা ছিল কি না— সবকিছু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।