লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাবনায় গাছে গাছে এবার লিচুর সমারোহ। মৌসুমের শুরুতে প্রচুর মুকুল দেখে আশায় বুখ বেঁধেছিলেন চাষীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন ও ভাল লাভের আশা করছেন তারা। কিছুদিনের মধ্যে বাজার আসবে দেশী জাতের লিচু। আর ঈদের পর মিলবে বোম্বাইসহ অন্যান্য জাতের লিচু। এদিকে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিভাগের।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে সরেজমিনে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার কয়েকটি লিচু বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ডালে ডালে দোল খাচ্ছে লাল টকটকে রসালো ফল লিচু। সেইসঙ্গে দোলা দিচ্ছে কৃষকের মনেও। কারণ কিছুদিনের মধ্যেই বাজারে আসবে দেশী জাতের এই লিচু। আর সবুজ রঙে থাকা বোম্বাই, মোজাফফর সহ অন্যান্য জাতের লিচু মিলবে ঈদের পর। তাই পাবনার লিচু বাগানগুলো এখন লাল-সবুজে মাখামাখি।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, পাবনা জেলায় এ বছর ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ কনরা হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার মেট্টিকটন।
চাষীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, চলতি মৌসুমের শুরুতে বাগানগুলোতে গাছে গাছে দেখা যায় প্রচুর মুকুল। তখন থেকেই আশায় বুক বাঁধেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তাই ফলনও হয়েছে অনেক ভাল। গেলো বছর আশানুরুল ফলন না পেলেও, এবছর ভাল দাম পাওয়া আশা তাদের।
লিচুচাষী আব্দুর রজিম বলেন, এবছর মুকুল আসার পর থেকে সেচ, সার, কীটনাশক প্রয়োগে গাছের যত্ন নিয়েছেন তারা। ফলন ভাল দেখে হাসি ফুটেছে সবার মুখে। গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান তিনি।
আরেক লিচুচাষী মহির উদ্দিন জানান, পাবনার লিচুর সুনাম ও চাহিদা সারাদেশে। গত বছর লিচু আবাদে লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার তার ৫০টি লিচু গাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন তিনি।
লিচু চাষী নুর হোসেন বলেন, দেশী জাতের লিচু আগে পাকে। সেটাই এখন গাছে দেখতে পারছেন। এটাই এখন বাজারে উঠবে। আর বোম্বাই, মোজাফফরীসহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসতে আসতে কোরবানির ঈদের পর।
পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানি বলেন, ‘আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিলাম ৩৫ হাজার মেট্টিক টন। ভাল ফলন হওয়ায় আমাদের আশা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০ হাজার মেট্টিক টন হবে। কৃষি বিভাগ সবসময় চাষীদের পাশে ছিল। চাষীরাও সে মোতাবেক গাছের পরিচর্যা করেছেন। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে।’