জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহীপুর এলাকায় একসময় পরিত্যক্ত হিসেবে ফেলে দেওয়া কলাগাছ এখন হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। যে কলাগাছ কোনো কাজে লাগত না, সেই গাছ থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে ঝুড়ি, ডালাসহ হস্তশিল্পের কাঁচামাল। আর সেই পরিবেশবান্ধব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে আমেরিকা, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কলা চাষ হওয়ায় ফল সংগ্রহের পর বিপুল পরিমাণ কলাগাছ নষ্ট হয়ে যেত। তবে সেই পরিত্যক্ত কলাগাছ সংগ্রহ করে এর বাকল প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মো. রিয়াছাদ রেজভী। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোট পরিসরে শুরু করা এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় তৈরি করেছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
কলাগাছের বাকল আলাদা করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকানো হয়। পরে এসব শুকনো বাকল ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য তৈরিতে। বিদেশে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এ শিল্পও ধীরে ধীরে প্রসার পাচ্ছে।
উদ্যোক্তা মো. রিয়াছাদ রেজভী বলেন, বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে ৪ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। কলার বাকল শুকিয়ে প্রতি মণ প্রায় দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকার আয় হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এ ব্যবসা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, ‘আগে অটো মিলে কাজ করে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করতাম। বর্তমানে কলাগাছের বাকল প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যুক্ত হয়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছি। এতে পরিবার নিয়ে আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারছি। ধরঞ্জি, আয়মা, রাধাবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কলাগাছ সংগ্রহ করে কারখানায় আনা হয়। এরপর গাছের বাকল আলাদা করে রোদে শুকিয়ে বিশেষ উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। পরে এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প সামগ্রী।’
পাঁচবিবি উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। অথচ সেই ফেলনা কলাগাছ থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে হস্তশিল্পের কাঁচামাল।’
তিনি আরও বলেন, কলাগাছ থেকে হস্তশিল্পের কাঁচামাল তৈরির পর যে অবশিষ্ট অংশ থাকে, তা দিয়ে জৈব কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এই জৈব সার জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, ফেলনা কলাগাছকে কাজে লাগিয়ে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনাই তৈরি করছে না, বরং পরিবেশ সুরক্ষা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।