হাটে ১১০০ কেজির রিকিশি
৯০ দশকের ডাব্লিউডাব্লিউই প্রতিযোগীর পরিচিত নাম রিকিশি। কালের বিবর্তণে বিশাল দেহের অধিকারী রিকিশি এখন মাঠে কুস্তি খেলতে না নামলেও বরিশালে কোরবানির মাঠে এখন আলোচনায় তার নাম। ১১শ কেজি ওজনের একটি বিশাল গরুর নাম রাখা হয়েছে রিকিশি। তাই নিয়ে রিতিমতো হইচই পড়ে গেছে পুরো জেলাজুড়ে।
জানা গেছে, ৫ মাস আগে বরিশালের একটি খামারে নিয়ে আসা হয় রিকিশিকে। এরপর থেকেই আদর যত্ন শুরু হয় তার। প্রতিদিন নিয়ম করে দুইবার তাকে গোসল করানো হয়। প্রিয় খাবার ভূষি ও ঘাস। হাটে ওঠানোর আগে রিকিশিকে দেখতে খামারে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছেন।
সরেজমিনে এমইপি এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, রিকিশিকে খাবার খাওয়াচ্ছে রাখাল শাহাদাত মিয়া। নাগরিক প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে রিকিশির গভীর সম্পর্ক। নিজের সন্তানের মতো করে দেখভাল করি। ওকে আদর না করে ওর পাশ দিয়ে হেটে গেলে ও রাগ করে। আমার সঙ্গেই ওর সব রাগ-অভিমান-আনন্দ। নিজের সন্তানের মতো করে লালন-পালন করছি। এখন কোরবানিতে যদি ওর বেচাবিক্রি হয়ে যায় জানিনা কি করে নিজেকে সামাল দিব। আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে রিকিশি। আল্লাহ যদি আমাকে টাকাপয়সা দিতো যে করেই হোক ওকে কিনে রাখতাম। জানি না ওর বিক্রি হয়ে গেলে নিজেকে কী বলে বুঝ দেব।’
ফ্রিজিয়ান জাতের গরু রিকিশি বরিশালের সবচেয়ে বড় গরু দাবি করে এর পালনকারী বলছেন প্রতিদিন খাবারের পিছনে ব্যয় হয় ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা। এমনকি রাখা হয় চিকিৎসকের তত্বাবধায়নে। কোরবানিকে কেন্দ্র করে দাম চাওয়া হচ্ছে ৯ লাখ টাকা।
এমইপি এগ্রোর ইনচার্জ রাফিউর রহমান অমি বলেন, ‘ষাঁড়টিকে প্রথম দেখায় ৯০ দশকের ডাব্লিউডাব্লিউই প্রতিযোগী রিকিশির মতো মনে হয়। তাই শখ করে ওর নাম রাখা হয়েছে রিকিশি। প্রতিদিন অন্য সব গরুর চেয়ে রিকিশিকে আলাদা আদর যত্ন করা হয়। আশা করি রিকিশিকে ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।’
বরিশাল বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর বরিশালে ৩৯ হাজার ১৫ জন খামারীর কাছে কোরবানির জন্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫ টি পশু আছে। তবে চাহিদা আছে মাত্র ৪ লাখ ৭৮৩টি। ফলে উদ্বৃত্ত থেকে যাবে ৬৭ জাচার ৬৬২ টি পশু।